পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাস আমাদের শরীরের শক্তির প্রধান উৎস। দেহের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে শর্করা, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, এবং মিনারেল গ্রহণ করা উচিত। প্রাকৃতিক খাবার বেশি খাওয়া অর্থাৎ প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে তাজা ফল, সবজি এবং শস্যজাতীয় খাবার গ্রহণ করা উচিত।
পর্যাপ্ত জলপান: প্রতিদিন অন্তত ৫-৭ লিটার জল পান করা উচিত, যা শরীরের টক্সিন বের করে দেয় এবং কিডনির কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
চিনি ও লবণ কম খাওয়া: অতিরিক্ত চিনি ও লবণ উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার: হজমশক্তি উন্নত করতে শাকসবজি, ফলমূল, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত খাবার খাওয়া দরকার।
চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, দৈনিক অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট ব্যায়াম করলে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। এক্ষেত্রে যে ব্যায়ামগুলো সবচেয়ে উপকারী
কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম: হাঁটাহাঁটি, দৌড়, সাইক্লিং, সাঁতার ইত্যাদি হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায়।
শক্তিবর্ধক ব্যায়াম: ওজন তোলা, যোগব্যায়াম ও বডি-ওয়েট ট্রেনিং পেশির গঠন ও হাড়ের দৃঢ়তা বাড়ায়।
মানসিক প্রশান্তির জন্য যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন: এই অভ্যাসগুলো স্ট্রেস কমায় ও মনকে প্রশান্ত রাখে।
চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুসারে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। ঘুম আমাদের দেহের কোষ পুনর্গঠন করে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি।নিয়মিত ঘুমের রুটিন অনুসরণ করা, ঘুমের আগে মোবাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস এড়িয়ে চলা,ঘরের পরিবেশ আরামদায়ক রাখা ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল গ্রহণ সীমিত করার মতো কিছু ভালো অভ্যাস গঠনের মাধ্যমে আমাদের পর্যাপ্ত ঘুম কে নিশ্চিত করতে পারি।
মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া : মেডিটেশন ও শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যায়াম করা, সৃজনশীল কাজে মনোযোগ দেওয়া (যেমনঃ ছবি আঁকা, লেখালেখি, সংগীত চর্চা), পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো, নিয়মিত দৈনন্দিন পরিকল্পনা তৈরি করা ইত্যাদির মতো কিছু নিয়মিত অভ্যাসের মাধম্যে স্ট্রেস ও উদ্বেগ কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। মানসিক সুস্থতার জন্য সাধারণ বিষয়ের জন্য দুশ্চিন্তা না করা, অন্যদের সাহায্য করা ও সামাজিকভাবে সংযুক্ত থাকার মতো অভ্যাসগুলো সহায়ক হতে পারে।
যে অভ্যাসগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর যেমন ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ, অতিরিক্ত ফাস্টফুড ও প্রসেসড ফুড খাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত ক্যাফেইন গ্রহণ, সারাদিন অলসভাবে বসে থাকার মতো অভ্যাস থেকে দূরে থাকলে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করা সহজ হয়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা বা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তচাপ, সুগার ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা, যে কোনো অসুস্থতার লক্ষণ দেখলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ও ভালো অভ্যাসগুলোর অবিচ্ছেদ অঙ্গ।
সুতরাং সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য ভালো অভ্যাস গড়ে তোলা অপরিহার্য। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক সুস্থতা, খারাপ অভ্যাস পরিহার এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা—এই সবকিছু আমাদের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে পারে। চিকিৎসাশাস্ত্র ও বিজ্ঞানের আলোকে এই অভ্যাসগুলো অনুসরণ করলে একজন ব্যক্তি দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ, সুখী ও কর্মক্ষম জীবনযাপন করতে পারবেন। তাই এখনই এই ভালো অভ্যাসগুলো নিজের জীবনে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।