টুথপেস্ট থেকে শুরু করে সাবান, দুটো নিম পাতার ছবি আর সেই বিজ্ঞাপনের চমকেই কোটি কোটি টাকার মুনাফা। "ভিলেজ ফার্মেসি" বলে পরিচিত নিমের গুনাগুন সম্পর্কে আমরা যতটা অবহিত ঠিক ততটাই ব্রাত্য গ্রাম গঞ্জে এই গাছটি। বাজার চলতি রেডিমেড মোড়কে মোড়া সুসজ্জিত উপকরণের ভিড়ে ধীরে ধীরে পরিচিতি হারাচ্ছে। ভারত সরকারের "মিনিস্ট্রি অফ আয়ুস" সংক্ষেপে জনেচ্ছে নিমের কিছু গুনাগুনের কথা ।
আয়ুর্বেদ জগতে প্রায় ১৩০টিরও বেশি বৈচিত্র্যময় বায়লজিক্যাল কম্পাউন্ড রয়েছে এই নিমে। রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এন্টি-ভাইরাল এবং ইমিউনো স্টিমুলান্ট প্রপারটিজ। নিমের কিছু সহজ ব্যবহার এখানে উল্লেখ করা হল-
ত্বকের সমস্যায় হলুদের সাথে নিমপাতার পেস্ট মিশিয়ে একজিমা চুলকানি দাঁত এবং অন্যান্য ত্বকের সমস্যায় ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়।ক্ষত নিরাময়ের ক্ষেত্রে নিম পাতার পেস্ট তৈরি করে নিয়মিত লাগানো যেতে পারে।
নিম পাতা ফুটিয়ে সেই জল ঠান্ডা করে চোখ ধোয়ার কাজে ব্যবহার করলে চোখের লাল ভাব জ্বালা সহ ক্লান্তির অবস্থা থেকে মুক্তি দেয়
নিম পাতা সিদ্ধ করে সেই সবুজ জল ঠান্ডা হয়ে গেলে শ্যামপুর পর চুল ধোয়ার কাজে ব্যবহার করলে খুশকি দূর হতে সাহায্য করে।
নিম পাতা শুকিয়ে গুড়ো করে রেখে দিয়ে নিয়মিত এক গ্লাস জলের সাথে যদি খাওয়া হয় জাদুকরি ভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে পারে।
নিম বীজ থেকে তৈরি নিম তেল বিশেষ ঔষধি গুণাবলীর জন্য পরিচিত সৌন্দর্য এবং প্রসাধনী যেমন চুলের তেল সাবান হাত ধোয়া আরো অনেক কিছুতে এটি ব্যবহৃত হয়। চর্ম রোগের চিকিৎসা এবং মশার তারক হিসেবে এর কার্যকরী ভূমিকা আছে নারকেল তেলের সাথে ব্যবহার করে এটি ত্বকের উপর প্রয়োগ করলে ত্বককে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর উজ্জ্বল করে তোলে।
দাঁত মাজার জন্য নিম ডালের কোন বিকল্প নেই এটি সারভিয়ার এসিডকে ব্যালেন্স করে যার ফলে টুথ ক্যাভিটি থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে, জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে ব্যাকটেরিয়াকে দূর রাখে মাড়ি ফোলার চিকিৎসার ক্ষেত্রে এর যাদুকরি ক্ষমতা। তাছাড়া মুক্তোর মতো চকচকে দাঁত পেতে এর জুরি ওরাল হাইজিনে এর বিকল্প নেই।
তাই নিমকে দৈনন্দিন ব্যবহারে যুক্ত করুন এবং এর উপকার পেতে থাকুন
তথ্যসূত্র - Ministry Of Ayush , Government of India